সুস্থতা
ভালো থাকুন
শিশুদের মাঝে বাড়ছে হামের প্রকোপ :লক্ষণ ও অভিভাবক হিসেবে আপনার করণীয়।
দেশে ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শিশুদের মধ্যে একটি রোগ বেশ দ্রুত ছড়াচ্ছে—তা হলো 'হাম' (Measles)। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, বড়দের তুলনায় ছোটরাই এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো ছোঁয়াচে রোগের ক্ষেত্রে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাই এই সময়ে আতঙ্কিত না হয়ে, সঠিক তথ্য জানা এবং সচেতন থাকাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।
অনেকেই সাধারণ জ্বর বা অ্যালার্জির সঙ্গে হামকে গুলিয়ে ফেলেন। চিকিৎসকদের মতে, আপনার শিশুর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ দেখলে দ্রুত সতর্ক হতে হবে এবং অবহেলা না করে সঠিক পরিচর্যা শুরু করতে হবে।
হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী কী?
আপনার শিশুর মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে:
তীব্র জ্বর ও সর্দি-কাশি: হঠাৎ তীব্র জ্বর আসা এবং সেই সঙ্গে অনবরত সর্দি-কাশি হওয়া।
চোখ লাল হওয়া: চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়া।
লালচে দানা বা র্যাশ: জ্বর শুরুর ৩-৪ দিন পর কান ও মুখের চারপাশ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ ওঠা।
শারীরিক দুর্বলতা ও অরুচি: শরীর অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং খাবারের প্রতি তীব্র অরুচি দেখা দেওয়া।
ছোটদের কেন বেশি হচ্ছে এবং সুরক্ষায় করণীয়
শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়দের চেয়ে কম থাকে এবং স্কুলে বা খেলার মাঠে একে অপরের সংস্পর্শে আসার কারণে এটি দ্রুত ছড়ায়। শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে এবং আক্রান্ত হলে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে আজই এই পদক্ষেপগুলো নিন:
১. এমএমআর (MMR) টিকা নিশ্চিত করা
হাম থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক উপায় হলো সঠিক সময়ে 'এমএমআর' (MMR) টিকা দেওয়া। আপনার শিশুর নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এই টিকা সম্পূর্ণ হয়েছে কি না, তা পুনরায় যাচাই করুন।
২. আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা (আইসোলেশন)
ঘরের অন্য কোনো শিশুর সুরক্ষার স্বার্থে আক্রান্ত শিশুকে কয়েক দিন আলাদা ঘরে রাখুন। শিশুর ব্যবহৃত গামছা, তোয়ালে, প্লেট, গ্লাস ইত্যাদি আলাদা রাখুন এবং জীবাণুমুক্ত করুন।
৩. প্রচুর তরল ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া
হাম হলে শিশুর শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই এই সময়ে শিশুকে প্রচুর পানি, ডাবের পানি, স্যুপ, ফালের রস এবং ঘরের তৈরি সহজে হজম হয় এমন পুষ্টিকর খাবার দিন।
৪. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ নয়
নিজে থেকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক, অতিরিক্ত প্যারাসিটামল বা চোখের ড্রপ ব্যবহার করবেন না। লক্ষণ দেখা মাত্রই নিকটস্থ রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আপনার সন্তানকে কি হামের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়েছে? শিশুর সুরক্ষায় কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। পোস্টটি শেয়ার করে আপনার পরিচিত অন্য বাবা-মায়েদেরও সচেতন করুন!
